যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন আশঙ্কার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরো বেড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা এবং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনা জ্বালানির বাজারে ফের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ২ ডলার ৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ২৯ সেন্টে পৌঁছায়। এর আগে প্রারম্ভিক লেনদেনে দাম ১১২ ডলার স্পর্শ করে, যা ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৭৩ সেন্টে পৌঁছায়। এটি আগের দিনের তুলনায় ২ ডলার ৩১ সেন্ট বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০৮ ডলার ৭০ সেন্টে ওঠে, যা ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জাহাজে হামলা ও জাহাজ আটক বন্ধে শান্তিচুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়ায় গত সপ্তাহে দুই ধরনের জ্বালানি তেলের দামই ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
দিন কয়েক আগে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকও যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই শেষ হয়। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল আমদানিকারক চীন এই সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখবে।
প্রেস্টিজ ইকোনমিকসের জেসন শেনকার এক নোটে বলেন, ‘ইরানকে ঘিরে সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, জ্বালানি তেলের দামের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতের ঝুঁকি তত বাড়বে। এতে সুদহারও দীর্ঘ সময় উঁচু অবস্থানে থাকতে পারে।’
তিনি আরের বলেন, ‘এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও স্থায়ী নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’